ভারতের সঙ্গে যেন ব্যবধানটা কমছেই না বাংলাদেশের মেয়েদের। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের পর এবার এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও একই প্রতিপক্ষের কাছে হারতে হলো নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে।এবারও ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিতে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে। ভারতের ১৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
জয়ের জন্য ১৯৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের তোপে পড়ে বাংলাদেশ।নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা দলের হয়ে একমাত্র লড়াইটা করেছেন দিলারা আক্তার। ওপেনার ২৩ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় করেন ২৭ রান।কিন্তু তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না।
জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফেরেন শূন্য রানে। সোবহানা মোস্তারি করেন ৪, অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৯। এরপর স্বর্ণা আক্তার ৫ ও শারমিন আক্তার ১০ রান করে বিদায় নিলে বাংলাদেশের বড় পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। সবমিলিয়ে ১৫.৪ ওভারে ৮১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ১১৪ রানের বড় হারে তাই ব্যাটিং ব্যর্থতাই হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের সবচেয়ে বড় হতাশা।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তুলেছে ভারত। ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা শেফালী ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার ঝোড়ো ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৯টি ছক্কা। ইনিংসের শেষ বলে স্বর্ণা আক্তারের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ওপেনার।
রোববার শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ভারতের দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালী। ১৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ রান করে নাহিদা আক্তারের বলে ফেরেন মান্ধানা। তার এই ছোট্ট ইনিংসটিও ছিল রেকর্ডময়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সময় নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ড নিজের করে নেন ভারতীয় ওপেনার। নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার রান বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭৬৫।
মান্ধানা ফেরার পর তিনে নামা গুনালন কমলিনীও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১০ বলে ৩ রান করে সানজিদা আক্তার মেঘলার শিকার হন তিনি। তবে তাতে থামেনি ভারতের রানের গতি।
একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন শেফালী। তাকে সঙ্গ দেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। দুজন মিলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। ৩৩ বলে ৬ চারে ৪০ রান করে রাবেয়া খানের বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন হারমানপ্রীত। এরপর দ্রুতই ফিরে যান রিচা ঘোষ, করেন ২ রান।
তবে শেষটা পুরোপুরিই শেফালীর। ৪৯ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের রানের রেকর্ডটাও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান এই ওপেনার। তার ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংসেই ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত। শেষদিকে ভারতী ফুলমালি ৫ বলে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে করা ১৬৩ রান। বেঙ্গালুরুর সেই ম্যাচে ভারত ১৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড পেরিয়ে বাংলাদেশকে আরও বড় চ্যালেঞ্জে ফেলল ভারত।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও মারুফা আক্তার একটি করে উইকেট নেন।
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১৫০ রান তাড়া করতে নেমে ৪০ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের পর এবার এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও একই প্রতিপক্ষের কাছে বড় হার। টানা দুই টুর্নামেন্টে ভারতের কাছে নকআউট পর্বে ব্যাটিং সামলানোর সামর্থ্য নিয়ে। এই হারে ব্রোঞ্জের লড়াই পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে লড়বে বাংলাদেশ।





