বাংলা চলচ্চিত্রে মাত্র তিন বছরের পথচলা। অথচ এই অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন, যার আবেদন আজও অমলিন।অভিনয়, পোশাক, চুলের স্টাইল, চলন-বলন- সবকিছুতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তরুণ প্রজন্মের আইকন। তিনি ঢালিউডের ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহ।
আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, সালমান শাহর জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজ ৫৬ বছরে পা রাখতেন জনপ্রিয় এই নায়ক।১৯৭০ সালের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন।বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী।
সালমান শাহ যেন বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতোই আবির্ভূত হয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই সিনেমায় অভিষেক ঘটে চিত্রনায়িকা মৌসুমীরও। প্রথম সিনেমাতেই সাফল্য পান সালমান শাহ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
সালমান শাহর জনপ্রিয়তা শুধু তার অভিনয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তার চুলের স্টাইল, পোশাক-পরিচ্ছদ, কথা বলার ধরন ও চলন-বলন তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পর্দার নায়ক সালমান শাহর পাশাপাশি ব্যক্তি সালমানও জয় করে নেন মানুষের হৃদয়।

তবে বড় পর্দায় আসার আগে ছোট পর্দায়ও কাজ করেছেন তিনি। ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘দোয়েল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন সালমান শাহ। পাশাপাশি অসংখ্য বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্রে মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনয় করেন মোট ২৭টি সিনেমায়। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হলো- ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুজন সখী’, ‘বুকের ভেতর আগুন’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘স্নেহ’, ‘বিচার হবে’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘মহা মিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘বিক্ষোভ’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘আঞ্জুমান’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘প্রিয়জন’, ‘শুধু তুমি’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘দেন মোহর’ ও ‘স্বপ্নের ঠিকানা’।
জুটি হিসেবে সালমান শাহর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাবনূর। এই জুটি একসঙ্গে ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। তাদের পর্দার রসায়ন আজও ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত জুটি হিসেবে স্মরণ করা হয়।
‘বুকের ভেতর আগুন’ ছিল সালমান শাহ অভিনীত শেষ সিনেমা। এর পরই থেমে যায় তার স্বল্পদৈর্ঘ্য কিন্তু বর্ণিল চলচ্চিত্রযাত্রা।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সালমান শাহকে। তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও রহস্যের কথা উঠে এসেছে। মৃত্যুর এত বছর পরও বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেও সালমান শাহর জনপ্রিয়তায় আজও ভাটা পড়েনি। চলচ্চিত্রে তার সময়কাল ছিল অল্প, কিন্তু সেই অল্প সময়েই তিনি যে দাগ রেখে গেছেন, তা কয়েক দশক পরও মুছে যায়নি।



